জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা
বাংলা প্রথমপত্র
মোস্তাফিজুর রহমান, লিটন সিনিয়র শিক্ষক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পালিক কলেজ,ঢাকা
অধ্যায় :অতিথির স্মৃতি
অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর :
শেরপুরের নাইমুদ্দিন প্রায় ১০ বছর ধরে তার পোষা হাতি কালাপাহাড়কে দিয়ে লাকড়ি টানা, চাষ করা, সার্কাস দেখানো ইত্যাদি কাজ করে আসছিলো। কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে হাতির খোরাক যোগাড় করতে না পেরে একদিন সে কালা পাহাড়কে বিক্রি করে দিল। ক্রেতা কালাপাহাড়কে নিতে এসে ওর পায়ে বাধা রশ্মি ধরে টানাটানি করে একচুলও নাড়াতে পারল না। কালাপাহাড়ের দুচোখ বেয়ে শুধু টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। পরের দিন খদ্দের আরও বেশি লোকজন সাথে করে এসে কালা পাহাড়কে নিয়ে যাবে বলে চলে যায়। কিন্তু ভোরবেলা নাইমুদ্দিন দেখে—কালাপাহাড় মরে পড়ে আছে। হাউমাউ করে সে চিত্কার করে আর বলে—'ওরে আমার কালাপাহাড়, অভিমান করে তুই চলে গেলি।'
ঘ) উদ্দীপকের নাইমুদ্দিনের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারাই উত্সারিত বলে তুমি মনে কর কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও। উত্তর : ঘ
উদ্দীপকের নাইমুদ্দিনের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারাই উত্সারিত বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে নাইমুদ্দিনের মধ্যে আমরা পশুপ্রেম নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করি।
অতি দারিদ্র্যতার জন্যে সে তার পোষা কালাপাহাড় নামক হাতিকে বিক্রি করে দিলেও পোষা হাতি তার কাছ থেকে দূরে যায়নি। বরং শেষ পর্যন্ত হাতিটি মনিবের প্রতি ভালোবাসাময় অভিমান করে মৃত্যুকে অনায়সেই গ্রহণ করেছে। হাতির মৃত্যুতে সাথে সাথে নাইমুদ্দিনের যে আত্মবিলাপ তা যেনো অতিথির স্মৃতি গল্পে লেখকের অতিথির হারানোর বেদনার প্রতিরূপ।
অতিথির স্মৃতি' গল্পের পটেও আমরা উদ্দীপকের নাইমুদ্দিনের মতো একপ্রকার গভীর বেদনাবোধ লক্ষ্য করি। কেননা লেখক যখন দেউঘরে বায়ু পরিবর্তনের জন্যে গিয়ে ছিলেন তখন তার সাথে একটি কুকুরের সখ্য ভাব গড়ে ওঠে। কুকুরটি যেনো লেখকের কাছে আত্মীয় হয়ে ওঠে; তার প্রতি লেখকের ভালোবাসা যেনো তীব্র হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ দিকে কুকুরটিকে একা ফেলে আসাতে লেখকের মনেও উদ্দীপকের নাইমুদ্দিনের মতো বেদনাবোধ আমরা দেখতে পাই। পশুর প্রতি ভালোবাসা বা মমত্ববোধ মানুষের চিরকালীন। উদ্দীপক এবং মূল গল্পে যে বোধ আমাদেরকে পশুর প্রতি মমত্ববোধ শেখায় তা যেনো আমাদের চিরচেনা একটি দৃশ্য। উদ্দীপকের নাইমুদ্দিনের পোষা হাতি কালাপাহাড়কে হারিয়ে যে অনুশোচনা তা লেখকেরই অনুশোচনার প্রতিরূপ কেননা নাইমুদ্দিন অভাবের তাড়নায় হাতি বিক্রি করলে শেষে সে পোষা প্রাণীর মমতা বুঝতে পেরেছে এবং সে ব্যথায় সে ব্যথিত হয়েছে। লেখকও অতিথির প্রতি যে ভালোবাসা বা মমত্ব দেখিয়েছেন কিন্তু শেষে যখন তিনি চলে আসবেন বলে মনে ভাবলেন তখনই আমরা দেখি অতিথির প্রতি তাঁর মনের মধ্যে এক অজানা মমতা। শেষে লেখকের চলে আসার মুহূর্তটি আমাদের নাইমুদ্দিনের মনের অবস্থার সাথে মিলিয়ে দেয় লেখক ও সমগ্র গাল্পিক পরিবেশকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নাইমুদ্দিনের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারাই উত্সারিত।


No comments:
Post a Comment